মদনপুরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনপুর এলাকায় আল-বারাকা হাসপাতালের সামনের একটি গলিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে কথিত জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এখানে বড় পরিসরে জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মদনপুর আল-বারাকা হাসপাতালের সামনের গলিতে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং রাত ৮টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত জুয়ার আসর চলে। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের জুয়া খেলা হয়। তবে কথিত কোটি কোটি টাকার লেনদেনের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের বিএনপির নেতা বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কথিত জুয়ার আসর পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।

বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আসর

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিকেল থেকেই ওই এলাকায় জুয়াড়িদের আনাগোনা শুরু হয়। সন্ধ্যার পর কিছু সময় বিরতি দিয়ে রাত ৮টার পর আবারও জমে ওঠে আসর, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এখানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষজনের আনাগোনা থাকে। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ায় নারী, শিশু ও সাধারণ পথচারীদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি তাদের।

তরুণদের জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নিয়মিত জুয়ার আসর চলতে থাকলে স্থানীয় উঠতি বয়সী তরুণরা এতে জড়িয়ে পড়তে পারে। প্রথমে বিনোদন বা দ্রুত টাকা আয়ের আশায় জুয়ায় যুক্ত হয়ে পরবর্তীতে অনেকে সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জুয়ায় টাকা হারিয়ে অনেকে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার দ্রুত অর্থের প্রয়োজন মেটাতে কেউ কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

চুরি-ছিনতাই বৃদ্ধির অভিযোগ

জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অপরাধের সঙ্গে কথিত জুয়ার আসরের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের প্রশ্ন—দীর্ঘদিন ধরে যদি জনসম্মুখে এমন একটি কথিত জুয়ার আসর চলতে থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে এবং কীভাবে তারা এতদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে?

তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্টরা জুয়ার আসর পরিচালনা করছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এর পেছনে কারা অর্থ জোগান দিচ্ছে, কারা পরিচালনা করছে এবং কারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে—তদন্তের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তদন্তের দাবি

একই সঙ্গে কথিত জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে এলাকায় কোনো ধরনের চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা বা অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চলার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জননিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে মদনপুরের আল-বারাকা হাসপাতালের সামনের কথিত জুয়ার আসরটি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *