মীমাংসার কথা বলে ব্যবসায়ীকে ডেকে মারধরের অভিযোগ, মা-ভাইসহ পরিবারের ওপর হামলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: পলাশ চন্দ্র সেন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে থানায় করা অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ী মো. নাহিদ প্রধানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার মা, ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপরও হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পরিবারের নারীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও সোনার আংটি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার পর রাতে নাহিদের বাসায় গিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মো. নাহিদ প্রধান (৩১) দীর্ঘদিন ধরে মেসার্স নাহিদ ট্রেডার্স নামে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। পরিচিতির সূত্র ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মুদি পণ্য ও নগদ টাকা ধার হিসেবে নেন। এসব বাবদ অভিযুক্তদের কাছে মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ টাকা পাওনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন নাহিদ।

নাহিদের দাবি, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। গত ৫ আগস্ট পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নাহিদ সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পর অভিযুক্তরা থানায় গিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে নিজেদের মধ্যে বসে মীমাংসার কথা বলে নাহিদকে ডেকে নেন বলে অভিযোগ। পরে মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে অভিযুক্তরা এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও ১৫–২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা নাহিদের বিরুদ্ধে একটি মাদক সেবনের ভিডিও সংবাদ বা প্রচার করার অভিযোগ তোলেন। নাহিদের দাবি, তিনি ওই ভিডিও সংবাদ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তাকে দায়ী করা হয় এবং এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। তবে নাহিদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ সময় নাহিদের মা, ভাই ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে নারীদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নগদ, একটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড এবং সোনার আংটি নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ঘটনার পর রাতের বেলায় নাহিদের বাসায় গিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

নাহিদের অভিযোগ, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া, থানায় অভিযোগ করা এবং তাকে একটি মাদক সেবনের ভিডিও প্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই তার ওপর হামলা, পরিবারের সদস্যদের মারধর, টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া এবং বাসায় ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার পুলিশের বক্তব্যও নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *