নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে শুধু NID-তে পাসপোর্ট?কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বিভ্রান্তি, বর্তমান ঠিকানা ও অধিক্ষেত্র নিয়ে প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : পলাশ চন্দ্র সেন

নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও ঠিকানা যাচাইয়ের নিয়ম নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। একই বিষয়ে অফিসের প্রধান ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিভ্রান্তিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সংবাদ সংগ্রহের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে অফিসের প্রধান দাবি করেন, বাংলাদেশের যেকোনো জেলার নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID থাকলেই নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এসে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।

তবে একই অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্য ছিল ভিন্ন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, NID-এর পাশাপাশি আবেদনকারী বর্তমানে যে ঠিকানায় বসবাস করছেন, তার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। চাকরি বা কর্মসংস্থানের কারণে কেউ নারায়ণগঞ্জে বসবাস করলে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসের প্রমাণপত্রও প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান তারা।

আর এখানেই তৈরি হয়েছে মূল বিভ্রান্তি।

একদিকে অফিসের প্রধান বলছেন, শুধু NID থাকলেই দেশের যেকোনো জেলার নাগরিক নারায়ণগঞ্জ থেকে পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে—পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে আসলে কোন নিয়মটি কার্যকর?

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রকাশিত নির্দেশনায় আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার আওতাধীন বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস কিংবা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন দাখিলের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জন্যও অধিদপ্তরের তালিকায় পৃথক আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস রয়েছে।

এ অবস্থায় অন্য জেলার স্থায়ী ঠিকানার কোনো নাগরিক যদি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন, তাহলে তিনি কি শুধুমাত্র NID-এর ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে সেবা নিতে পারবেন?

যদি পারেন, তাহলে বর্তমান ঠিকানা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী?

আর যদি বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ প্রয়োজন হয়, তাহলে কী ধরনের কাগজপত্র গ্রহণযোগ্য—এ বিষয়ে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা কোথায়?

বিষয়টি নিয়ে মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্র অনুযায়ী পাসপোর্টের আবেদন করার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বর্তমান প্রধান প্রায় চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে একই অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পার্থক্য থাকায় সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমীচীন নয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত বিধিমালা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং বাস্তবে কী প্রক্রিয়ায় আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে—এসব বিষয় যাচাই করেই পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে একজন নাগরিক যেন একেক কর্মকর্তার কাছ থেকে একেক ধরনের তথ্য না পান, সে জন্য আবেদন গ্রহণের নিয়ম, অধিক্ষেত্র, বর্তমান ঠিকানা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে স্পষ্ট ও লিখিত নির্দেশনা থাকা জরুরি।

কারণ, পাসপোর্ট একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথি। এই সেবা নিতে এসে নিয়ম সম্পর্কে অস্পষ্টতা কিংবা কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকলে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।

এখন তাই সংশ্লিষ্ট মহলের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অধিক্ষেত্র ও বর্তমান ঠিকানা যাচাইয়ের নিয়ম অনুসরণ করে কি নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন নেওয়া হচ্ছে, নাকি শুধুমাত্র NID-এর ভিত্তিতেই দেশের যেকোনো জেলার নাগরিককে পাসপোর্ট সেবা দেওয়া হচ্ছে?

বিষয়টি নিয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

নারায়ণগঞ্জ থেকে পলাশ চন্দ্র সেনের প্রতিবেদন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *