খুলনা ব্যুরো:থেকে কাজী আতিক
সাতক্ষীরার পশ্চিম সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের জন্য বিএলসি (অনুমতিপত্র) নিতে সরকারি ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালী ও কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনকে ঘিরে এ অভিযোগ করেছেন সুন্দরবননির্ভর জেলেরা।

জেলেদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি রাজস্ব ও ফি পরিশোধের পরও নৌকা ও জেলেপ্রতি অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে বিএলসি পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। স্থানীয় কয়েকজন দালালের মাধ্যমে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি জেলেদের।
বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের পর থেকে ৯৩২ জন জেলে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে বিএলসি নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিএলসির বিপরীতে নৌকাপ্রতি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া মাছ ধরার নৌকায় জেলেপ্রতি ৫০০ টাকা এবং নৌকার জন্য আরও ৪৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন জেলেরা।
তাদের দাবি, শুধু বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনেই চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা হতে পারে। চারটি স্টেশন মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে তিনি কোনো অর্থ নেননি।
সাতক্ষীরা বন বিভাগের এসিএফ শাহিনুর ইসলাম জানান, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমানও অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।