আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে রাতে নির্মাণকাজ, দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ,

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : পলাশ চন্দ্র সেন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শ্রী শ্রী বাবা পাগলনাথ জিউর ও রামসীতা মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তিতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মন্দির কমিটির অনুমোদন ছাড়াই দেবোত্তর সম্পত্তিতে দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগও করেছেন বিরোধী পক্ষ।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দেবোত্তর সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত উভয় পক্ষকে সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার (Status quo) নির্দেশ দেন। ফলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী সেখানে নতুন কোনো নির্মাণকাজ করার সুযোগ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশনার পরও ফতুল্লা মডেল থানাকে পাশ কাটিয়ে রাতের বেলায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে কাজ করায় বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর থাকা একটি স্থাপনার ছাদে রড দিয়ে নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজের বর্তমান অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। এ কারণেই রাতের বেলায় নির্মাণসামগ্রী ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করা হচ্ছে বলে তারা জানান।

এদিকে, ওই স্থাপনায় আদালতের স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত আদেশের একটি পোস্টার টাঙানো ছিল বলে জানা গেছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে পোস্টারটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাসের লোকজন আদালতের আদেশসংবলিত পোস্টারটি ছিঁড়ে ফেলেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, পাগলনাথ জিউর ও রামসীতা মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে তিনি একাধিকবার ঘটনাস্থলে গেছেন।

ওসি মাহবুব আলম বলেন, “আদালতের আদেশ রয়েছে, দুই পক্ষের কেউ কাজ করতে পারবে না। তবে আমরা শুনেছি, একটি পক্ষ গোপনে নির্মাণকাজ চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করা সম্ভব নয়। কোনো পক্ষ যদি আমাদের নির্মাণকাজের বিষয়ে অবহিত করে, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফোর্স পাঠাব।”

অভিযোগের বিষয়ে মন্দিরের সেবায়েত চিন্ময় দাসের বক্তব্য জানতে সরেজমিনে মন্দিরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়দের দাবি, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেবোত্তর সম্পত্তিতে অনুমোদনহীন কোনো নির্মাণকাজ হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *