সাভার প্রতিনিধি:
সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় মামলত খা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলা, নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলায় তার নাম রয়েছে। এসব অভিযোগ ও মামলার মধ্যেও তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হেমায়েতপুরের এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ মদদ ও প্রভাবের কারণে মামলত খা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থেকে তিনি এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, মামলত খার বিরুদ্ধে সাভার থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন। তবে এসব মামলার সুনির্দিষ্ট নম্বর, ধারা ও বর্তমান আইনি অবস্থার তথ্য সংশ্লিষ্ট নথি ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এসআই হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
এদিকে, সম্প্রতি পুলিশের এক এসআই হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে মামলত খার ঘনিষ্ঠতা ও যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিভিন্ন অপরাধীচক্রের সঙ্গে তার নিয়মিত ওঠাবসা রয়েছে এবং এসব যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করছেন।
তবে এসআই হত্যা মামলার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা কিংবা কোনো আসামির সঙ্গে তার যোগাযোগের অভিযোগের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
পুলিশকেও হুমকির অভিযোগ
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মামলত খা তার প্রভাব দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছেন। এমনকি সাভার থানা পুলিশের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সাভার থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে কার্যকরের দাবি
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কারও বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও তিনি কীভাবে প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান করছেন? একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে সাভার থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মামলত খার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়েও ওসি, ওসি (অপারেশন), ওয়ারেন্ট অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় বর্তমানে কার্যকর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আদালত ও পুলিশের নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মামলত খার বিরুদ্ধে ওঠা দখল, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অন্যান্য অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তা আইন অনুযায়ী কার্যকর করার পাশাপাশি অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী কোনো মহলের প্রভাব ছাড়াই অভিযোগগুলোর তদন্ত হবে এবং প্রকৃত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আইনের আওতায় আসবেন।
অন্যদিকে, মামলত খার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নথি, মামলার বর্তমান অবস্থা ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা হলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।