নারায়ণগঞ্জে ৭১ মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা চেক, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্টের পাশাপাশি উন্নত জাতের ফলের গাছ উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:

নারায়ণগঞ্জে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ৭১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সহায়তার চেক, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার বার্তা হিসেবে একটি করে উন্নত জাতের ফলের গাছ উপহার দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা সহায়তার চেক, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে উন্নত জাতের ফলের গাছও উপহার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ। আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ফলের গাছ তুলে দেওয়ার উদ্যোগটিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা তৈরি এবং বৃক্ষরোপণে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে উৎসাহ দেওয়া আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই শিক্ষা সহায়তার এই উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সম্পদ তৈরি করে। তাই শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও শিক্ষা সহায়তার পাশাপাশি একটি করে ফলের গাছ উপহার দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এসএসসি-২০২৬-এ কৃতিত্ব অর্জনকারীসহ মোট ৭১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শিক্ষা সহায়তা, সম্মাননা ও গাছ উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আয়োজকদের এমন উদ্যোগ নারায়ণগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *