সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে টানা ছয় মাস ধরে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় মাদ্রাসার শিক্ষকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ১২, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী কিশোর। তারা ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। অপর দুজন হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক জাবের হোসেন (২১) ও মো. কামরুল ইসলাম (২৬)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন কিশোর ও শিক্ষক জাবের হোসেনের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। আর ভুক্তভোগী শিশু যাতে বিষয়টি পরিবারের কাছে জানাতে না পারে, সে জন্য তাকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান ইশান জানান, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
তিনি বলেন, মামলাটি ঢাকা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। খুব শিগগিরই বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
মামলার নথি অনুযায়ী, ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার আবেদন করেন। পরে আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে সাভার মডেল থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার আরজিতে সাভারের পূর্ব শাহবাগ এলাকার ওই মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষার্থী, চার শিক্ষক ও পরিচালককে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী শিশুকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বাকি তিন শিক্ষক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
