জমি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ; নথিতে আরিফের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী বিএম ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সম্পত্তি নিয়ে পুরোনো অনিয়মের অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। জমি বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল, প্রতারণা ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগে স্থানীয়ভাবে আমিরুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও আরিফের নাম নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্দরের ঐতিহ্যবাহী বিএম ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে জমি বিক্রির নামে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপে স্কুল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ প্রকাশের পর প্রথম দিনেই সংশ্লিষ্ট স্থানীয় দুই নেতার কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার চেক আদায় করে।
অপর একটি প্রতিবেদনে শিরোনাম দেওয়া হয়— “এমপি সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপে বিএম স্কুলের কোটি টাকা উদ্ধার”। সেখানে আমিরুল-গিয়াসউদ্দিনকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের কথাও তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও আমিরুল ইসলামের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
নথিতে আরিফের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য
বর্তমানে আলোচনায় থাকা আরিফের বিষয়ে একটি নথিতে একাধিক মামলার রেফারেন্স উল্লেখ রয়েছে। নথি অনুযায়ী—
১. বন্দর থানার মামলা:
মো. আরিফ (৩৭), পিতা—আমিরুল ইসলাম, সাং—বাবু পাড়া, উপজেলা/থানা—বন্দর, জেলা—নারায়ণগঞ্জের বিরুদ্ধে বন্দর থানার এফআইআর নং-৫৪/১৭৮, তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৮ উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে এবং তাকে ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
২. বন্দর থানার আরেকটি মামলা:
একই নথিতে আরিফের বিরুদ্ধে বন্দর থানার এফআইআর নং-১৩, তারিখ ১০ মার্চ ২০১০-এর তথ্যও রয়েছে। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩৭৯/৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে এবং নথিতে তাকেও এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. যাত্রাবাড়ী থানার মামলা:
অন্য একটি নথিতে আরিফ (৩৯), পিতা—মৃত আমিনুল, ঠিকানা—বন্দর বাবুপাড়া, নারায়ণগঞ্জের বিরুদ্ধে ডিএমপি যাত্রাবাড়ী থানার এফআইআর নং-৪৩, তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৫ এবং জিআর নং-১০২৩, তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে। নথিতে দণ্ডবিধির ১১৪/১৪৭/১৪৮/১০৯/৩০২/৩৪ ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাকে ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অর্থাৎ, সরবরাহ করা নথিতে আরিফের বিরুদ্ধে বন্দর থানার দুটি এবং যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলার রেফারেন্স পাওয়া যাচ্ছে।
বাবা-ছেলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমিরুল ইসলাম ও তার ছেলে আরিফ দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। স্থানীয় পর্যায়ে আমিরুলকে বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আরিফকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পদ বা সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে আলাদা সরকারি সূত্রে যাচাই করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি, দখল এবং মামলা দিয়ে হয়রানির মতো অভিযোগেও তারা স্থানীয়দের কাছে বিতর্কিত। এসব অভিযোগের কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরকারি সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম বা জালিয়াতির অভিযোগ থাকলে কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি। জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের নামে কারও কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বন্দরবাসীর প্রশ্ন—পুরোনো অভিযোগ এবং বিভিন্ন মামলার তথ্য থাকার পরও যদি নতুন করে সম্পত্তি দখল, বিক্রি, প্রতারণা বা হয়রানির অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে?
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।
