নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বহুল আলোচিত সাহেব আলী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ রনি (৩২)-কে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ আভিযানিক দল। অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানাধীন শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনিতে তাঁর নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১২ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনির ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ সময় সশস্ত্র হামলাকারীরা সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় রনিকে গুলি চালাতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী সূত্র। গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহেব আলী সড়কের পাশের একটি খালে পড়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তখনও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। গোয়েন্দা তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রনির অবস্থান শনাক্ত করে এসআরবি-১১। পরে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ দল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াবদা কলোনিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, এ মামলার এজাহারনামীয় তিন নম্বর অভিযুক্ত সাব্বিরকে গত ১৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মামলায় জড়িত অন্য পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গ্রেপ্তার রনির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে সূত্র জানায়।
তবে মামলার তদন্ত ও আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে অভিযুক্তদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই।