রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞাপন :
সংবাদিক নিয়োগ! আপনি যদি সাংবাদিকতা এবং প্রতিবেদনে অভিজ্ঞ হন এবং ব্রেকিং নিউজ থেকে প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য আগ্রহী হন, তবে সম্মানিত সংবাদ সংস্থা তে আপনার জন্য সুযোগ আছে। সংবাদিক মান্যতা এবং প্রতিবেদন ক্ষমতা সাথে জয়েন করুন।
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় ৪০০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০১ জন আসামী গ্রেফতার । চিকিৎসকদের ধর্মঘট বুধবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৫নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা ৬ মাসের আইন কর কিশোর গ্যাং মাদক ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তনা আশুলিয়া  কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ উচ্চ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক  আশুলিয়ায় মুরগী ব্যবসায়ীদের প্রতারনা ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে দুই কারারক্ষীকে বরখাস্ত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার: প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে মানবন্ধন ও সমাবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ট্রাষ্টি নলেজ কে গ্রেফতার দাবিতে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ  আশুলিয়ায় শ্রমিক নেতাদের উপর হামলা; ৩ কর্মকর্তা আটক

কিশোর গ্যাং মাদক ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তনা আশুলিয়া 

মোঃ শামীম আহমেদ, আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকা জেলার আশুলিয়া এখন ডেথ জোন হয়ে উঠেছে গত ১৬ থেকে ১৭ বছর আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দেশের প্রায় ৬৪ জেলার মানুষ কর্মের খোঁজে আশুলিয়ায় আসেন এর কারণ, এখানে ছোট বড় কয়েক হাজার পোশাক কারখানা রয়েছে। বহিরাগতদের আসা যাওয়ার মধ্যে বিভিন্ন থানার তালিকাভুক্ত অপরাধীরা আশুলিয়ায় বিভিন্ন বাসায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। সূত্র জানায়, যেসকল দম্পতিরা পোশাক কারখানায় কাজ করেন তাদের মধ্যে কিছু ছেলে সন্তান লেখাপড়ার সুযোগ নিয়ে স্কুল কলেজে না গিয়ে কিশোর গ্যাং তৈরি করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে। মা বাবা কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে কোনো খবর নিতে পারেন না বলে তারা দাবি করেন।
রবিবার (২ মার্চ ২০২৫ইং) পুলিশ জানায়, গত রাতে আশুলিয়ার ভাদাইল ও জামগড়ার মধ্যে রূপায়ন আবাসন-১নং এর  মাঠের ভেতর থেকে ছিনতাইকারী চক্রের ১৭জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ র‍্যাব সহ যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান আছে। পুলিশের দাবি-পূর্বের থেকে এখন আশুলিয়ায় খুন, চুরি ডাকাতি ও ছিনতাই কমেছে, আগে আশুলিয়ায় যেখানে সেখানে বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ মানুষের লাশ পাওয়া যেতো তাই “ডেথ জোন আশুলিয়া” বলতেন অনেকেই। তবে ১৬ থেকে ১৭ বছর পরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর আশুলিয়ায় পুলিশকে হত্যা করে ওভারব্রীজে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো যা বাংলাদেশে কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি, এমনকি ছাত্র-জনতার অর্ধশতাধিক হত্যাকাণ্ডে ৬জন শহীদকে পুড়িয়ে গুম করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং আশুলিয়া থানার অস্ত্র লুট সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। জীবিত ব্যক্তিকে ৫ আগষ্ট শহীদ বলে হত্যা মামলা হয়, ভুয়া বাদী সেজে অনেকেই মামলা বানিজ্য করে। জানা গেছে, এর আগে গত (১৯ এপ্রিল ২০২৩ইং) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এনভয় গার্মেন্টস এর নারী পোশাক শ্রমিক বাসা থেকে কর্মস্থলে ডিউটিতে যাওয়ার সময় জামগড়া নিউ বঙ্গ মার্কেটের পিছনে আসামাত্রই তাকে ছুরি দিয়ে পিছনে কুপিয়ে এবং পেটে ছুরি ঢুকিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে খুনি পালিয়ে যায়। এসময় ভিকটিমকে আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। ভিকটিম মিস কুইন (২৫) পিতা মোঃ কুদ্দুস, গ্রাম ফতেপুর, থানা উপজেলা নওগাঁ। আশুলিয়ার জামগড়া চিত্রশাইল এলাকার মোঃ ফিরোজ কবিরের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন তিনি। ভিকটিম এনভয় গার্মেন্টসের সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। ভিকটিমের স্বামী  মোঃ আজাদ (৩৫) নেশাখোর হওয়ায় ৬ মাস আগে তাকে ডিভোর্স দেন। এ ঘটনার পর সিসিটিভি দেখে বুঝা যায়, ভিকটিমকে তার সাবেক স্বামী আজাদ তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়েছে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেন। এ এলাকায় হত্যা ও আত্মহত্যা দর্শন বিবাহ বিচ্ছেদ
নতুন কিছু নয়।
আশুলিয়ায় প্রায় সময় চলছে পাড়া মহল্লায় ওয়ার্ড ইউনিয়ন ভিত্তিক নেট লাইন নিয়ে ডিস লাইন নিয়ে মারা মারি গ্যানজাম ফ্যাসাদ আতংক থাকতে হয় সাধারণ মানুষের। শ্রমিকরা লাইন নিয়ে টাকা দিচ্ছে মাসে মাসে তারা ঠিক মতো লাইন ব্যাবহার করতে পারে না। একজন লাইন দেয় আরেক জন লাইন কাটে দখল বাজির পায়তারায় দিশে হারা যারা শ্রমিক বাড়ীওয়ালা লাইন ব্যাবহার করে তারা। ভুক্ত ভোগিরা এর প্রতিকার চাই।
গত ১৬ এপ্রিল ২০২৩ইং আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামগড়া উত্তর পাড়া মনির মার্কেট মসজিদের সামনে আবুল হোসেন ওরফে আবু ভুঁইয়া’র ৫ম তলা ভবনের ৩য় তলায় শ্রী বিমল মন্ডল (৫০) কে কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহত বিমল মন্ডল রাজবাড়ি জেলার পাংশা থানার নওরা বনগ্রাম এলাকার মৃত খিতিস মন্ডলের ছেলে। ভিকটিম তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে কাজ কর্ম করতেন পরিবারের সবাই। নিহতের স্ত্রী ও মেয়ে পোশাক শ্রমিক, বিকেল ৫টার দিকে অফিস ছুটির পর প্রথমে বাসায় আসেন, দরজা বাহির থেকে লাগানো ছিলো, দরজা খুলে বিমল মন্ডলের মেয়ে দেখতে পায় তার বাবা খাঁটের বিছানার উপর পড়ে আছেন মুখের ভেতরে কাঁচি মরদেহ পড়ে আছে। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। রহস্য হলো, এই হত্যাকান্ডের পর ওই বাড়ির মালিক আবু ভুঁইয়া ও তার ছেলে জাহিদ হাসান বাবু (২৫), শুভ হাসান (২৩) বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাদের বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেননি, এমনকি ঘটনাস্থলের ওই বাড়ির ভাড়াটিয়াদের হুমকি প্রদান করে মুখ খুলতে দেয়া হয়নি। এরপর এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকায় বাড়িওয়ালার বড় ছেলে জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করেন র‍্যাব-৪ এর চৌকস একটি দল। একই দিনগত রাতে আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল উত্তর পাড়া মোঃ কাদির হাজীর বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি সুমন (২৩) এর ফাঁসি দেয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
এখানে প্রায় ঘটছে আগুনে পুরে মানুষ মারা যাবার খবর। এখানে তিতাস গ্যাসে একটি চক্র চুরি করে নিম্ন মানের পাইপ ব্যাবহার করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাসায় হোটেলে লাইন দেওয়ার কারনে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা মারা যাচ্ছে অনেকেই। মাঝে তিতাস কতৃপক্ষের অভিযানে লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে আবার কিছুদিন পরে আবার লাইন সংযোগ দিচ্ছে। এযেন দেখার কেউ নেই। পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে অনেকে মারা যাচ্ছে। যারা গ্যাসের ব্যাবসা করে এরা এলাকায় বিভিন্ন বাসা বাড়া নিয়ে মুজত রাখে গোডাউন হিসেবে রাখে কেউ কেউ বলে এরা বড় বোতল থেকে ছোট বোতলে গ্যাস ভরে বেশি লাভের আশায় পানি ও বালু মিক্স করে ওজন বাড়ায়। এর কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটে অনেকেই মারা গেছে। ২৩ সালে জামগড়া তেঁতুল তলা গোডাউন বিস্ফোরণ হয়ে শিশু সহ মারা যায় ৫ জন। কাঠগড়া মারা যায় ৩ জন। কিছু দিন আগে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়ে আহত হয় ১১ জন এর মধ্যে মারা যায় ৩ জন। এরকম প্রতি নিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এদিকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সাধারণ জনগন।
জানা গেছে, এর আগে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ভাদাইল ক্রাইম জোন এলাকার সাদেক হোসেন ভুঁইয়া মেম্বারের বড় ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন ভুঁইয়ার ভাদাইলের নতুন একটি বাড়ির ৪র্থ তলা ভবনের ২য় তলায় গাড়ি চালক রাকিব হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ রিপা আক্তার (১৮) এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। স্থানীয় সরকার মার্কেট নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে নিহত রিপা আক্তারের লাশ উদ্ধার করেন আশুলিয়া থানা পুলিশ। এর আগে গত (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং) সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন আবাসন-১ এর ১নং গেটের পাশে কফিল উদ্দিনের ৪র্থ তলার ছাদের সিঁড়ির উপর ঝুলন্ত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানার এসআই রাজু মন্ডল। জানা গেছে, এই বাড়ির মালিক কফিল উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী ঘটনার দিন তার বাবার বাড়ি লালমনিরহাট ছিলেন। এদিকে কফিল উদ্দিন তার বাসায় ২য় তলায় রাতে একা ছিলেন, ৪র্থ তলার ১নং রুমের ভাড়াটিয়া ওই নারীর সাথে ওই বাসার কার কি হয়েছে? তার কারণে ভিকটিম ছাদের সিঁড়ির উপরে ফাঁসির ঘটনা ঘটে। এর আগে ওই নারীর স্বামী সহ একই বাড়ির টিনসেট ঘরের পকেট রুমে ভাড়া ছিলেন। হঠাৎ করে ৪র্থ তলার ১নং রুমে তাদেরকে আশ্রয় দেন বাড়ির মালিক কফিল উদ্দিন। স্থানীয়রা জানান, মেয়েটি কেন ফাঁসি নিবে? কেন তাকে পকেট রুম থেকে ৪র্থ তলায় স্থান পরিবর্তন করা হলো?। পুলিশ ও র‍্যাব উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আশুলিয়া এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ফিটিংবাজি, খুন সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে অপরাধীরা। সেই সাথে নারী ও শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হচ্ছেন অনেক নারী ও শিশু।
গত (১৪ আগস্ট ২০২২ইং) সকাল ৯ টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তপুরের মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ দিলু মন্ডল তার চাচাতো ভাই হাজী জমত আলী মন্ডল (৬৫) এর সাথে সরকারি রাস্তা ও এক ফিট জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, এক পর্যায়ে হাতাহাতি হলে এ সময় দিলু জমত আলীকে কিলঘুসি মারেন এবং ইট দিয়ে নাকে ও বুকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের ছোট ভাই জয়নাল ও দিলু হোসেনের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম মন্ডলের সাথে সরকারি রাস্তা ও জমি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিলো, এর এক পর্যায়ে তাদের এই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ঘোষবাগ ৪ বছরের শিশু কন্যার ধর্ষণের চেষ্টা মামলা করে এক নারী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাব জানায়, উক্ত ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এদিকে অনেকেই অভিমত প্রকাশ করেন যে, আশুলিয়ায় নিরাপদ “ক্রাইম জোন”-এ পরিণত হয়েছে, রাজধানীর নিকটবর্তী শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া থানা। এখানে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস আর মাদক ব্যবসা যেন অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা আশুলিয়াবাসীর কাছে। এ এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই লাশ উদ্ধার হয়। অনেক দিন আগে ৯জানুয়ারি ২০১৭ইং একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে পাওয়া যায়, আশুলিয়া থেকে ১১ মাসে ১২৩টি লাশ উদ্ধার হয়। তাই উক্ত আশুলিয়াকে ডেথ জোন ও আতঙ্কের জনপদ বলা হয়। আশুলিয়া থানা পুলিশ ও র‍্যাব জানায়, অপরাধীদের গ্রেফতার করার জন্য আমাদের অভিযান চলমান আছে। অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত